সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে হাঁটুতে টান লাগে। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েক পা হাঁটতেই কষ্ট হয়। অনেকে এই অবস্থায় ফার্মেসি থেকে একটা ব্যথার ঔষধ কিনে খেয়ে নেন। কিছুক্ষণের জন্য ব্যথা কমে, তাই মনে হয় সমস্যা মিটে গেছে। কিন্তু ব্যথা কমে যাওয়া মানেই রোগ সেরে যাওয়া নয়।
এই লেখায় আমরা দেখব, হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথায় সাধারণত কোন ধরনের ঔষধ ব্যবহার হয়, সেগুলোর সুবিধা ও ঝুঁকি কী, এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ঔষধ খাওয়া কেন ঠিক নয়। শেষে ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সাহায্য করে, তা-ও জানাব।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই লেখাটি শুধু সাধারণ সচেতনতার জন্য। এখানে কোনো ঔষধের নির্দিষ্ট ডোজ বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়নি। কোন ঔষধ আপনার জন্য নিরাপদ, তা শুধু আপনার চিকিৎসকই বলতে পারবেন।
হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথা কেন হয়?
ঔষধের আগে ব্যথার কারণ বোঝা দরকার। কারণ ভেদে চিকিৎসাও আলাদা হয়। হাঁটুর ব্যথার কিছু সাধারণ কারণ:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাঁটুর ক্ষয়জনিত ব্যথা): বয়স বাড়ার সাথে হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয় হয়ে যায়। ৪০-৫০ বছরের পর এটি বেশি দেখা যায়।
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: এটি অটোইমিউন রোগ। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজের জয়েন্টকেই আক্রমণ করে।
- লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের ইনজুরি: খেলাধুলা, পড়ে যাওয়া বা হঠাৎ মোচড় লাগলে এমন হয়।
- রানার্স নি বা প্যাটেলোফেমোরাল পেইন: হাঁটুর সামনের দিকে ব্যথা। দৌড়ানো বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বাড়ে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন আমাদের রানার্স নি ট্রিটমেন্ট ও ফিজিওথেরাপি লেখায়।
- গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত ব্যথা: হঠাৎ হাঁটু ফুলে যায়, লাল হয় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
- ইনফেকশন: জয়েন্টে সংক্রমণ হলে জ্বর, ফোলা ও গরম ভাব থাকে। এটি জরুরি অবস্থা।
- অতিরিক্ত ওজন ও দুর্বল মাংসপেশি: ওজন বেশি হলে হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ে। উরুর মাংসপেশি দুর্বল হলে জয়েন্ট যথেষ্ট সাপোর্ট পায় না।
দেখা যাচ্ছে, কারণ অনেক। তাই সব ব্যথায় একই ঔষধ কাজ করে না।
হাঁটুর ব্যথায় সাধারণত কোন ধরনের ঔষধ ব্যবহার হয়?
চিকিৎসকেরা রোগীর অবস্থা, বয়স, অন্যান্য রোগ ও ব্যথার ধরন দেখে ঔষধ ঠিক করেন। সাধারণত নিচের ধরনের ঔষধ ব্যবহার হতে দেখা যায়।
১. প্যারাসিটামল (Paracetamol)
হালকা থেকে মাঝারি ব্যথায় এটি অনেক সময় প্রথম ধাপে ব্যবহার হয়। অন্য ব্যথানাশকের তুলনায় এটি পাকস্থলীতে কম প্রভাব ফেলে। তবে এটি ব্যথা কমায়, জয়েন্টের ফোলা বা প্রদাহ তেমন কমায় না। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই কতটুকু ও কতদিন খাবেন, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।
২. এনএসএআইডি (NSAIDs): প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর ঔষধ
আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রক্সেন, ডাইক্লোফেনাক, ইটোরিকক্সিব বা সেলিকক্সিব এই শ্রেণীর ঔষধ। এগুলো ব্যথার পাশাপাশি জয়েন্টের প্রদাহও কমায়, তাই হাঁটুর ব্যথায় বেশ পরিচিত। কিন্তু এর ঝুঁকিও আছে:
- পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, আলসার বা রক্তক্ষরণ
- কিডনির ওপর চাপ, বিশেষ করে বয়স্ক বা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে
- উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া
- হৃদরোগের ঝুঁকি, কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে
- অ্যাজমা বা অ্যালার্জি থাকলে সমস্যা বাড়তে পারে
এ কারণেই হৃদরোগ, কিডনি রোগ, আলসার বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঔষধ খুব সতর্কভাবে দিতে হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট রোগীর জন্য এটি একেবারেই উপযুক্ত নয়।
৩. টপিকাল ঔষধ: জেল, ক্রিম ও স্প্রে
হাঁটুর ওপর সরাসরি লাগানোর জন্য কিছু এনএসএআইডি জেল বা ক্রিম পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত খাওয়ার ঔষধের তুলনায় শরীরে কম শোষিত হয়, তাই পেটের সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে ত্বকে র্যাশ বা এলার্জি হতে পারে। ক্ষতস্থানে বা কাটা জায়গায় এগুলো লাগানো যাবে না।
৪. গ্লুকোসামিন ও কনড্রয়টিন সাপ্লিমেন্ট
বাজারে এগুলো খুব পরিচিত। অনেকে মনে করেন এতে ক্ষয়ে যাওয়া কার্টিলেজ আবার তৈরি হয়। কিন্তু গবেষণায় এর কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে। কারও কারও ক্ষেত্রে সামান্য উপকার হতে পারে, আবার অনেকের ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয় না। এটি নেবেন কি না, নিলে কতদিন নেবেন, তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে ঠিক করা ভালো। ডায়াবেটিস বা রক্ত পাতলা করার ঔষধ চলছে এমন রোগীদের বিশেষভাবে জিজ্ঞেস করে নেওয়া উচিত।
৫. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি
হাড় ও জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত পরীক্ষায় ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসক এগুলো দিতে পারেন। পরীক্ষা ছাড়া অকারণে বেশি পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথরসহ অন্য সমস্যা হতে পারে।
৬. ইনজেকশন থেরাপি
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক সরাসরি হাঁটুর জয়েন্টে ইনজেকশন দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন:
- কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন: এটি প্রদাহ কমিয়ে স্বল্পমেয়াদে ব্যথা কমায়। কিন্তু বারবার নিলে জয়েন্ট ও কার্টিলেজের ক্ষতি হতে পারে।
- হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন: জয়েন্টের লুব্রিকেশন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়। সবার ক্ষেত্রে সমান কাজ করে না।
- পিআরপি (PRP) থেরাপি: রোগীর নিজের রক্ত থেকে তৈরি। কিছু নির্বাচিত ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।
এই ইনজেকশনগুলো অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসক জীবাণুমুক্ত পরিবেশে দেবেন। ভুল জায়গায় বা ভুল সময়ে দিলে সংক্রমণসহ গুরুতর জটিলতা হতে পারে।
৭. অন্যান্য ঔষধ
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক ব্যথার স্নায়বিক দিকটি বিবেচনা করে আলাদা ধরনের ঔষধ দিতে পারেন। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউট হলে সেই রোগের নির্দিষ্ট ঔষধ লাগে, যা সাধারণ ব্যথানাশকের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই ঔষধগুলো রোগ নির্ণয়ের পর বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চলে।
নিজে নিজে ঔষধ খাওয়া কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
১. কারণ না জেনে চিকিৎসা মানে অন্ধকারে ঢিল ছোড়া
হাঁটুর ব্যথা অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়াও হতে পারে, আবার ইনফেকশনও হতে পারে। ইনফেকশনের রোগীকে শুধু ব্যথানাশক দিলে মূল সমস্যা চাপা পড়ে থাকে এবং ক্ষতি বাড়তে থাকে।
২. ব্যথা কমে গেলে ক্ষতি টের পাওয়া যায় না
ব্যথানাশক খেলে ব্যথা কমে, তাই আপনি স্বাভাবিকের মতো চলাফেরা করতে থাকেন। কিন্তু ভেতরে কার্টিলেজ বা লিগামেন্টের ক্ষতি চলতেই থাকে। পরে যখন ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসা অনেক জটিল হয়ে যায়।
৩. দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
দিনের পর দিন ব্যথানাশক খেলে পাকস্থলী, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
৪. অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা রক্ত পাতলা করার ঔষধ খান, তাহলে ব্যথানাশকের সাথে সেগুলোর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। চিকিৎসক আপনার সব ঔষধ জেনে তবেই নিরাপদ বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
৫. কিছু রোগীর জন্য নির্দিষ্ট ঔষধ নিষিদ্ধ
গর্ভবতী নারী, কিডনি বা লিভারের রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক ঔষধ উপযুক্ত নয়। বিজ্ঞাপন দেখে বা অন্যের পরামর্শে ঔষধ খাওয়া এ কারণেই ঠিক নয়।
৬. “অন্যজনের ঔষধ আমাকেও কাজ করবে” ধারণা ভুল
প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের জন্য যে ঔষধ কাজ করেছে, আপনার ক্ষেত্রে তা কাজ নাও করতে পারে। উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
কখন দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- আঘাত বা পড়ে যাওয়ার পর হাঁটু হঠাৎ ফুলে যাওয়া
- হাঁটু সোজা বা ভাঁজ করতে না পারা
- হাঁটুতে জ্বর, লালচে ভাব বা অতিরিক্ত গরম অনুভব
- হাঁটতে গেলে হাঁটু “ছেড়ে দিচ্ছে” এমন মনে হওয়া
- রাতে ঘুমের মধ্যেও ব্যথা থাকা
- কয়েক দিন ঘরোয়া যত্নের পরও ব্যথা না কমা
- ব্যথার সাথে পায়ে অসাড়ভাব বা ঝিনঝিন করা
- দুই হাঁটুতেই ব্যথা এবং সকালে ৩০ মিনিটের বেশি সময় জড়তা থাকা
ডাক্তার কীভাবে সঠিক চিকিৎসা ঠিক করেন?
চিকিৎসক সাধারণত কয়েকটি ধাপে এগোন:
- ইতিহাস জানা: কবে থেকে ব্যথা, কোন কাজে বাড়ে বা কমে, আগে কোনো আঘাত লেগেছিল কি না।
- শারীরিক পরীক্ষা: হাঁটুর নড়াচড়া, ফোলা, স্থিতিশীলতা ও মাংসপেশির শক্তি দেখা।
- প্রয়োজনে পরীক্ষা: এক্স-রে, এমআরআই, আল্ট্রাসাউন্ড বা রক্ত পরীক্ষা, যেমন ইউরিক অ্যাসিড, ইএসআর ও আরএ ফ্যাক্টর।
- ব্যক্তিগত পরিকল্পনা: ঔষধ, ফিজিওথেরাপি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, প্রয়োজনে ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচার।
শুধু ঔষধ নয়: ফিজিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ঔষধ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু হাঁটুর দুর্বলতার মূল কারণ ঠিক করে না। ব্যথা কমে গেলেও উরুর মাংসপেশি দুর্বল থাকলে, হাঁটার ধরন ঠিক না হলে বা জয়েন্টে জড়তা থাকলে কিছুদিন পর ব্যথা আবার ফিরে আসে। এখানেই ফিজিওথেরাপির ভূমিকা।
ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে সাধারণত যা করা হয়:
- ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ: আল্ট্রাসাউন্ড, লেজার ও অন্যান্য মডালিটির সাহায্যে।
- ম্যানুয়াল থেরাপি ও মবিলাইজেশন: জয়েন্টের জড়তা কমিয়ে নড়াচড়া বাড়ানো।
- শক্তিবর্ধক ব্যায়াম: কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিং ও গ্লুটিয়াল মাংসপেশি শক্তিশালী করা, যাতে হাঁটুর ওপর চাপ কমে।
- কাইনেসিওলজি টেপিং: চলাফেরার সময় জয়েন্টকে অতিরিক্ত সাপোর্ট দেওয়া।
- ব্যালেন্স ও গেইট ট্রেনিং: বিশেষ করে বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে। এ বিষয়ে পড়তে পারেন বয়স্কদের জন্য ব্যালেন্স ট্রেনিং ব্যায়াম লেখাটি।
- শিক্ষা ও পরামর্শ: দৈনন্দিন কাজে হাঁটুকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন, তার দিকনির্দেশনা।
হাড়, জয়েন্ট, লিগামেন্ট ও মাংসপেশির সমস্যার জন্য আমাদের মাসকুলোস্কেলেটাল ফিজিওথেরাপি সেবা সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি খেলাধুলা করতে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি আপনার দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার পরিকল্পনায় কাজে আসবে।
ঔষধের পাশাপাশি যে অভ্যাসগুলো হাঁটুকে ভালো রাখে
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
প্রতি এক কেজি বাড়তি ওজন হাঁটুর ওপর হাঁটার সময় কয়েক গুণ বেশি চাপ ফেলে। ওজন কিছুটা কমালেও ব্যথায় লক্ষণীয় পার্থক্য আসতে পারে।
নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম করুন
সাঁতার, সাইক্লিং বা হালকা হাঁটার মতো কম চাপের ব্যায়াম হাঁটুর জন্য ভালো। তবে কোন ব্যায়াম আপনার জন্য নিরাপদ, তা ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।
বসা ও ওঠার অভ্যাস ঠিক করুন
দীর্ঘক্ষণ আসন করে বা উবু হয়ে বসা এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে কমোডসহ টয়লেট এবং উঁচু চেয়ার ব্যবহার করুন।
সঠিক জুতা পরুন
খুব সমতল বা ক্ষয়ে যাওয়া জুতা হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। আরামদায়ক ও ভালো সাপোর্টযুক্ত জুতা বেছে নিন।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক
তীব্র আঘাতের পর ঠান্ডা সেঁক সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘদিনের জড়তায় গরম সেঁক আরাম দিতে পারে। কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা জেনে নেওয়াই ভালো।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম, কিন্তু একেবারে বসে থাকা নয়
অতিরিক্ত বিশ্রামে জয়েন্ট আরও শক্ত হয়ে যায়। তাই সঠিক পরিমাণ বিশ্রামের সাথে নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া বজায় রাখুন।
বয়স্ক ও চলাফেরায় অক্ষম রোগীদের জন্য
যাঁরা বয়সের কারণে বা অন্য শারীরিক সমস্যায় ক্লিনিকে আসতে পারেন না, তাঁদের জন্য আমরা হোম সার্ভিস ও অনলাইন কনসাল্টেশনের সুবিধা দিচ্ছি। ঘরে বসেই প্রাথমিক মূল্যায়ন ও ব্যায়ামের পরামর্শ পাওয়া সম্ভব।
আপনার জন্য সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা পেতে
প্রতিটি রোগীর হাঁটুর সমস্যা আলাদা। তাই কারও জন্য শুধু ঔষধ আর কিছু ব্যায়ামেই কাজ হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে ইনজেকশন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক রোগনির্ণয় ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
ফিজিও জোনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্ট টিম প্রতিটি রোগীকে ব্যক্তিগতভাবে মূল্যায়ন করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। আমাদের সব সেবা দেখতে পারেন, কিংবা রোগীদের অভিজ্ঞতা পড়ে নিতে পারেন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে যোগাযোগ পাতা দেখুন অথবা সরাসরি কল করুন: +৮৮০১৯৭৮৩৩২৯৩৬।
ঠিকানা: ২২, রবীন্দ্র সরণি রোড, সেক্টর ০৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ (২য় তলা, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার)
সময়: শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
হাঁটুর ব্যথায় কি নিজে থেকে ব্যথানাশক খাওয়া যায়?
অল্প সময়ের জন্য কেউ কেউ খান, কিন্তু এটি নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যথার কারণ না জেনে ব্যথানাশক খেলে মূল সমস্যা ধরা পড়তে দেরি হতে পারে, আর পাকস্থলী ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
গ্লুকোসামিন খেলে কি হাঁটুর ক্ষয় সেরে যায়?
না, এটি ক্ষয় পুরোপুরি সারিয়ে তোলে এমন প্রমাণ নেই। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথায় সামান্য উপকার হতে পারে। এটি নেবেন কি না, চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
হাঁটুর ব্যথা কি ঔষধ ছাড়াই ভালো করা সম্ভব?
অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব, বিশেষ করে যদি ব্যথা হালকা বা মাঝারি হয়। সঠিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফিজিওথেরাপিতে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি রোগীর অবস্থা আলাদা, তাই আগে চিকিৎসকের মূল্যায়ন দরকার।
ফিজিওথেরাপি কি ঔষধের বিকল্প?
সব ক্ষেত্রে নয়। কিছু রোগে ঔষধ অপরিহার্য, যেমন সংক্রমণ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গাউট। আবার অনেক যান্ত্রিক সমস্যায় ফিজিওথেরাপি প্রধান চিকিৎসা। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দুটো একসাথে চলে।
কতদিন ব্যথা থাকলে ডাক্তার দেখানো উচিত?
সাধারণভাবে এক-দুই সপ্তাহ ঘরোয়া যত্নের পরও ব্যথা না কমলে, বারবার ফিরে এলে, অথবা ফোলা, জ্বর বা হাঁটু নড়াতে না পারার মতো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
শেষ কথা
হাঁটুর ব্যথায় ঔষধ অনেক সময় প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর, কিন্তু সেটি সঠিক রোগনির্ণয়ের পর, সঠিক মাত্রায় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। নিজে নিজে ঔষধ খেয়ে সাময়িক আরাম পাওয়া সহজ, কিন্তু তাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়। ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক জীবনযাপনই হাঁটুকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখে।
হাঁটুর ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। আজই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
