কোমরের দুই পাশে ব্যথা কেন হয়? ১০টি কারণ ও প্রতিকার

কোমরের দুই পাশে ব্যথা কেন হয়? ১০টি কারণ ও প্রতিকার

অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার পর উঠতে গেলে কোমরে টান ধরে। সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমর সোজা করতে কষ্ট হয়। কারও ব্যথা দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ে, আবার কারও ব্যথা নিতম্ব বা পা পর্যন্ত নেমে যায়। এমন অভিজ্ঞতা আজ খুব সাধারণ।

কোমরের দুই পাশে ব্যথা একটি রোগ নয়, এটি একটি লক্ষণ। এর পেছনে মাংসপেশির টান থেকে শুরু করে মেরুদণ্ডের সমস্যা, এমনকি কিডনির রোগ পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ব্যথার কারণ বুঝতে পারলে সঠিক প্রতিকার নেওয়া সহজ হয়।

এই লেখায় আমরা কোমরের দুই পাশে ব্যথার ১০টি সাধারণ কারণ, প্রতিটির প্রতিকার, ঘরোয়া যত্নের নিয়ম এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি, তা বিস্তারিত জানব।

নোট: এই লেখাটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। ব্যথা তীব্র হলে বা দীর্ঘদিন থাকলে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

কোমরের দুই পাশের ব্যথা বলতে কী বোঝায়?

সাধারণত কোমরের নিচের অংশ (লাম্বার অঞ্চল) থেকে নিতম্বের ওপরের দিক পর্যন্ত যে ব্যথা মেরুদণ্ডের দুই পাশে অনুভূত হয়, তাকেই কোমরের দুই পাশের ব্যথা বলা হয়। কখনো এটি পিঠের মাঝের দিক থেকে শুরু হয়ে পাঁজরের নিচ পর্যন্ত যায়। আবার কখনো নিতম্ব, কুঁচকি বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যথার ধরনও আলাদা হতে পারে:

  • ভোঁতা ও চাপা ব্যথা
  • তীক্ষ্ণ, খোঁচা মারার মতো ব্যথা
  • জ্বালাপোড়া বা বিদ্যুৎ চমকানোর মতো অনুভূতি
  • নড়াচড়ায় বা বসে থাকলে বেড়ে যাওয়া ব্যথা

ব্যথার ধরন, সময় ও অবস্থান চিকিৎসকের কাছে রোগনির্ণয়ে বড় সূত্র হিসেবে কাজ করে।

কোমরের দুই পাশে ব্যথার ১০টি কারণ

১. মাংসপেশির টান বা স্ট্রেইন

এটি কোমর ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। ভারী জিনিস ভুলভাবে তোলা, হঠাৎ মোচড় খাওয়া বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে কোমরের মাংসপেশি ও লিগামেন্টে টান পড়ে। এতে ব্যথা, শক্ত ভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা হয়।

প্রতিকার:

  • প্রথম এক-দুই দিন অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে হালকা বিশ্রাম নিন, তবে পুরোপুরি শুয়ে থাকবেন না।
  • প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা ঠান্ডা সেঁক এবং এরপর গরম সেঁক সাহায্য করতে পারে।
  • ব্যথা কমলে ধীরে ধীরে হালকা স্ট্রেচিং শুরু করুন।
  • ভারী জিনিস তোলার সময় কোমর নয়, হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।

২. ভুল ভঙ্গিতে বসা ও দাঁড়ানো (পোস্টচারাল সমস্যা)

ডেস্কে কুঁজো হয়ে বসা, ল্যাপটপ কোলে নিয়ে কাজ করা, কিংবা মোবাইলের দিকে ঝুঁকে থাকা কোমরের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। ধীরে ধীরে এটি দুই পাশে স্থায়ী ব্যথায় রূপ নেয়। আজকের অফিসকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি খুব বেশি দেখা যায়।

প্রতিকার:

  • চেয়ারে পিঠ সোজা রেখে বসুন এবং কোমরের পেছনে ছোট বালিশ বা লাম্বার সাপোর্ট ব্যবহার করুন।
  • প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর উঠে একটু হাঁটুন বা শরীর টান করুন।
  • কম্পিউটারের স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখুন।
  • দুই পা মাটিতে সমতলভাবে রাখুন, পায়ের ওপর পা তুলে বসা এড়িয়ে চলুন।

৩. লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস (মেরুদণ্ডের ক্ষয়)

বয়স বাড়ার সাথে কোমরের মেরুদণ্ডের হাড় ও ডিস্ক ক্ষয় হতে থাকে। একে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস বা লাম্বার আর্থ্রাইটিস বলে। সাধারণত ৪০ বছরের পর এটি বেশি দেখা যায়, তবে খারাপ জীবনযাত্রার কারণে এখন কম বয়সীদের মধ্যেও হচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমর শক্ত লাগা এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ালে বা হাঁটলে ব্যথা বাড়া এর সাধারণ লক্ষণ।

প্রতিকার:

  • নিয়মিত কোর ও কোমরের শক্তিবর্ধক ব্যায়াম।
  • ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনায় স্ট্রেচিং ও মবিলাইজেশন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ।

৪. ডিস্ক প্রলাপস (স্লিপ ডিস্ক)

মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝে থাকা ডিস্ক বা কুশনের ভেতরের অংশ বেরিয়ে এসে পাশের স্নায়ুতে চাপ দিলে একে ডিস্ক প্রলাপস বা স্লিপ ডিস্ক বলা হয়। এতে কোমরে তীব্র ব্যথা হয়, যা অনেক সময় নিতম্ব ও পায়ে নেমে যায়। পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড় ভাব এবং দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিকার:

  • ডাক্তারের পরামর্শে এমআরআই করে নিশ্চিত হওয়া।
  • অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, সঠিক ব্যায়াম ও ভঙ্গি সংশোধনেই উন্নতি হয়।
  • ভারী জিনিস তোলা, সামনে ঝুঁকে কাজ করা ও হঠাৎ মোচড় দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • পায়ে দুর্বলতা বাড়লে বা মলমূত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যান।

৫. সায়াটিকা (স্নায়ুজনিত ব্যথা)

কোমর থেকে নিতম্ব ও পায়ের পেছন দিয়ে নেমে যাওয়া সায়াটিক নার্ভে চাপ পড়লে বা প্রদাহ হলে সায়াটিকা হয়। এতে সাধারণত এক পায়ে বিদ্যুতের মতো ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়। তবে কখনো কখনো দুই পাশেও হতে পারে। এর পেছনে প্রায়ই ডিস্কের সমস্যা বা পিরিফরমিস পেশির চাপ থাকে। স্নায়ুজনিত এই সমস্যার জন্য আমাদের নিউরোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি সেবা সহায়ক হতে পারে।

প্রতিকার:

  • স্নায়ু মবিলাইজেশন ও নির্দিষ্ট স্ট্রেচিং।
  • কোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম।
  • দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে না থেকে মাঝে মাঝে ভঙ্গি পাল্টানো।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ ও প্রয়োজনে অন্যান্য চিকিৎসা।

৬. স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টের সমস্যা

মেরুদণ্ডের নিচের অংশ ও নিতম্বের হাড়ের সংযোগস্থলে দুই পাশে স্যাক্রোইলিয়াক (এসআই) জয়েন্ট থাকে। এই জয়েন্টে প্রদাহ বা অস্থিরতা তৈরি হলে কোমরের নিচে দুই পাশে ব্যথা হয়। সিঁড়ি ভাঙা, উঠে দাঁড়ানো বা এক পায়ে ভর দেওয়ার সময় ব্যথা বাড়ে। গর্ভাবস্থার পর নারীদের এবং বারবার পড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

প্রতিকার:

  • জয়েন্টের স্থিতিশীলতা বাড়ানোর ব্যায়াম।
  • ম্যানুয়াল থেরাপি ও মবিলাইজেশন।
  • কাইনেসিওলজি টেপিং বা সাপোর্ট বেল্টের ব্যবহার, ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে।
  • এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানো ও পায়ের ওপর পা তোলা এড়িয়ে চলা।

৭. কিডনির সমস্যা (পাথর বা সংক্রমণ)

কোমরের দুই পাশে, বিশেষ করে পাঁজরের নিচে পিঠের দিকে যে ব্যথা হয়, তা অনেক সময় কিডনির সমস্যা থেকেও আসে। কিডনিতে পাথর থাকলে হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়, যা কুঁচকি পর্যন্ত নামতে পারে। সংক্রমণ হলে জ্বর, কাঁপুনি ও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকে।

মাংসপেশির ব্যথা সাধারণত নড়াচড়ায় বাড়ে ও বিশ্রামে কমে। কিন্তু কিডনিজনিত ব্যথা বিশ্রাম নিলেও থেকে যায় এবং শরীরের অবস্থান বদলালেও কমে না।

প্রতিকার:

  • প্রস্রাবে রক্ত, জ্বর, বমি বা প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
  • আল্ট্রাসাউন্ড ও প্রস্রাব পরীক্ষা করান।
  • প্রচুর পানি পান করুন, তবে রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

৮. নারীদের স্বাস্থ্যজনিত কারণ

মাসিকের সময়, এন্ডোমেট্রিওসিস, ডিম্বাশয়ের সিস্ট, জরায়ুর প্রদাহ কিংবা গর্ভাবস্থায় নারীদের কোমরের দুই পাশে ব্যথা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ওজন বাড়ায় কোমরের ওপর চাপ বেড়ে যায়। প্রসবের পরেও অনেকের কোমর ও পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা থাকে। এসব ক্ষেত্রে গাইনোকোলজিক্যাল ফিজিওথেরাপি সহায়ক হতে পারে।

প্রতিকার:

  • ব্যথা মাসিকের সাথে সম্পর্কিত বা অস্বাভাবিক হলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর নিরাপদ ব্যায়াম ও পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী করার প্রশিক্ষণ নিন।
  • ঘুমানোর সময় দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।

৯. অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের দুর্বলতা)

হাড় ক্ষয় হয়ে দুর্বল হয়ে গেলে মেরুদণ্ডের কশেরুকা সহজে ভেঙে যেতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং মেনোপজের পর নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। সামান্য আঘাতে বা কখনো কোনো আঘাত ছাড়াই কোমরে হঠাৎ ব্যথা শুরু হতে পারে। ধীরে ধীরে উচ্চতা কমে যাওয়া বা পিঠ কুঁজো হয়ে যাওয়াও লক্ষণ হতে পারে।

প্রতিকার:

  • ডেক্সা স্ক্যান ও ভিটামিন ডি-ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ ও পুষ্টি।
  • ওজন বহনকারী ও ব্যালেন্স ব্যায়াম, যা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। এ বিষয়ে জানতে পারেন বয়স্কদের ব্যালেন্স ট্রেনিং ব্যায়াম লেখাটি।

১০. অতিরিক্ত ওজন, কম নড়াচড়া ও মানসিক চাপ

বাড়তি ওজন, বিশেষ করে পেটের চর্বি কোমরের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। দুর্বল পেটের পেশি মেরুদণ্ডকে সঠিক সাপোর্ট দিতে পারে না। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলেও কোমর ও ঘাড়ের পেশি অজান্তে শক্ত হয়ে যায়। এতে দুই পাশে একটানা ব্যথা থাকে।

প্রতিকার:

  • ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনুন।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন, যেমন গভীর শ্বাসের ব্যায়াম।

কোমর ব্যথায় ঘরোয়া যত্ন: কী করবেন, কী করবেন না

যা করবেন

  • হালকা হাঁটাচলা চালিয়ে যান, কারণ একেবারে শুয়ে থাকলে মাংসপেশি আরও শক্ত হয়।
  • ব্যথার শুরুতে ঠান্ডা সেঁক এবং পরে গরম সেঁক ব্যবহার করুন।
  • শক্ত ও সমতল বিছানায় ঘুমান।
  • চিত হয়ে শুলে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে শুলে দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ রাখুন।
  • প্রচুর পানি পান করুন ও সুষম খাবার খান।

যা করবেন না

  • ভারী জিনিস হঠাৎ বা ভুল ভঙ্গিতে তুলবেন না।
  • দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে থাকবেন না।
  • ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ঘন ঘন ব্যথানাশক খাবেন না। এতে পাকস্থলী ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
  • অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তির কাছে জোরে মালিশ বা হাড় মটকানো (ম্যানিপুলেশন) করাবেন না।
  • ব্যথা নিয়ে ভারী ব্যায়াম বা জিম চালিয়ে যাবেন না।

কোমর ব্যথা কমাতে সহজ কিছু ব্যায়াম

নিচের ব্যায়ামগুলো সাধারণ কোমর ব্যথায় অনেকে করে থাকেন। তবে তীব্র ব্যথা, পায়ে অসাড়ভাব বা ডিস্কের সমস্যা থাকলে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ ছাড়া শুরু করবেন না।

  1. পেলভিক টিল্ট: চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করুন। পেটের পেশি টেনে কোমরের নিচের অংশ মেঝের দিকে চেপে ধরে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, তারপর ছেড়ে দিন।
  2. নি-টু-চেস্ট স্ট্রেচ: চিত হয়ে শুয়ে এক হাঁটু ধীরে বুকের দিকে টেনে আনুন, কিছুক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিন। এরপর অন্য পায়ে করুন।
  3. ক্যাট-ক্যামেল স্ট্রেচ: হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে পিঠ ধীরে ধীরে উপরে তুলুন ও নিচে নামান।
  4. ব্রিজিং: চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে নিতম্ব ধীরে ওপরে তুলুন। এতে নিতম্ব ও কোমরের পেশি শক্তিশালী হয়।
  5. হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ: পায়ের পেছনের পেশি নমনীয় থাকলে কোমরের ওপর চাপ কমে।

ব্যায়ামের সময় ব্যথা বাড়লে সাথে সাথে থেমে যান।

কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি?

নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান:

  • কয়েক সপ্তাহ ঘরোয়া যত্নের পরও ব্যথা না কমা
  • ব্যথার সাথে জ্বর, কাঁপুনি বা অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • এক বা দুই পায়ে দুর্বলতা, অসাড়ভাব বা ঝিনঝিন করা
  • প্রস্রাবে রক্ত, জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
  • আঘাত বা পড়ে যাওয়ার পর তীব্র ব্যথা
  • রাতে ঘুমের মধ্যে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
  • ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা অবস্থায় নতুন করে কোমর ব্যথা

বিশেষ করে মলমূত্র আটকে যাওয়া বা পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা জরুরি অবস্থার লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে এক মুহূর্ত দেরি করবেন না।

ফিজিওথেরাপি কীভাবে কোমর ব্যথায় সাহায্য করে?

কোমর ব্যথার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঔষধ শুধু ব্যথা সাময়িক কমায়। কিন্তু ব্যথার মূল কারণ, যেমন দুর্বল পেশি, ভুল ভঙ্গি ও জয়েন্টের জড়তা ঠিক করতে ফিজিওথেরাপি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।

ফিজিওথেরাপিতে সাধারণত যা করা হয়:

  • বিস্তারিত মূল্যায়ন: ব্যথার উৎস, ভঙ্গি, নড়াচড়া ও পেশির শক্তি পরীক্ষা করা।
  • ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: লেজার, আল্ট্রাসাউন্ড ও অন্যান্য মডালিটির সাহায্যে ব্যথা ও প্রদাহ কমানো।
  • ম্যানুয়াল থেরাপি ও মবিলাইজেশন: শক্ত হয়ে যাওয়া জয়েন্ট ও পেশি নমনীয় করা।
  • কোর স্ট্রেংদেনিং: পেট, পিঠ ও নিতম্বের পেশি শক্তিশালী করে মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেওয়া।
  • ভঙ্গি সংশোধন ও এরগোনমিক পরামর্শ: অফিস ও ঘরে সঠিকভাবে বসা, দাঁড়ানো ও ভারী জিনিস তোলার প্রশিক্ষণ।
  • ব্যক্তিগত হোম এক্সারসাইজ প্ল্যান: যাতে ব্যথা ফিরে না আসে।

হাড়, জয়েন্ট ও মাংসপেশির সমস্যায় আমাদের মাসকুলোস্কেলেটাল ফিজিওথেরাপি সেবা কোমর ব্যথার রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। খেলাধুলা বা ব্যায়ামের সময় কোমরে আঘাত পেলে স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি সেবা নিতে পারেন।

অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য ঘরে বসে সেবা

যাঁরা কোমর ব্যথা, বার্ধক্য বা অন্য কারণে চলাফেরা করতে পারেন না, তাঁদের জন্য ফিজিও জোন হোম সার্ভিস ও অনলাইন কনসাল্টেশনের সুবিধা দিচ্ছে। ঘরে বসেই প্রাথমিক মূল্যায়ন, ব্যায়াম নির্দেশনা ও ফলোআপ পাওয়া যায়।

আপনার কোমর ব্যথার সঠিক সমাধান পেতে

প্রতিটি মানুষের কোমর ব্যথার কারণ আলাদা। তাই সঠিক রোগনির্ণয় ছাড়া কোনো একটি ব্যায়াম বা ঔষধ সবার জন্য কাজ করে না। ফিজিও জোনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্ট টিম আপনার অবস্থা ভালোভাবে মূল্যায়ন করে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করবেন।

আমাদের সকল সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন, অথবা রোগীদের অভিজ্ঞতা পড়ে নিতে পারেন। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ পাতা দেখুন অথবা সরাসরি কল করুন: +৮৮০১৯৭৮৩৩২৯৩৬।

ঠিকানা: ২২, রবীন্দ্র সরণি রোড, সেক্টর ০৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ (২য় তলা, কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার)
সময়: শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা

আরও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক লেখা পড়তে আমাদের ব্লগ পাতা ঘুরে আসুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

কোমরের দুই পাশে ব্যথা কি কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে?

হ্যাঁ, কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ থাকলে কোমরের দুই পাশে, বিশেষ করে পাঁজরের নিচে ব্যথা হতে পারে। তবে বেশিরভাগ কোমর ব্যথা মাংসপেশি বা মেরুদণ্ডজনিত। জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা রক্ত থাকলে কিডনির সমস্যা সন্দেহ করে ডাক্তার দেখান।

কোমর ব্যথায় কি পুরোপুরি বিশ্রামে থাকা উচিত?

না। প্রথম এক-দুই দিন হালকা বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন শুয়ে থাকলে মাংসপেশি দুর্বল ও জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। সম্ভব হলে হালকা চলাফেরা চালিয়ে যাওয়াই ভালো।

কোমর ব্যথা কি নিজে নিজে ভালো হয়ে যায়?

মাংসপেশির সাধারণ টান থেকে হওয়া ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়। কিন্তু ডিস্ক, স্নায়ু বা জয়েন্টের সমস্যায় সঠিক চিকিৎসা ছাড়া ব্যথা বারবার ফিরে আসতে পারে।

কোমর ব্যথায় কোন ডাক্তার দেখাব?

প্রথমে একজন চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের মূল্যায়ন নিতে পারেন। প্রয়োজন হলে তিনি আপনাকে অর্থোপেডিক, নিউরোলজিস্ট, ইউরোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করবেন।

ফিজিওথেরাপিতে কোমর ব্যথা কতদিনে ভালো হয়?

এটি ব্যথার কারণ, তীব্রতা ও রোগীর বয়সের ওপর নির্ভর করে। কারও কয়েকটি সেশনে উন্নতি হয়, আবার দীর্ঘদিনের সমস্যায় কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসা ও হোম এক্সারসাইজ মেনে চললে ফল ভালো হয়।

কোমর ব্যথা প্রতিরোধে কী করা উচিত?

নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ভঙ্গিতে বসা-দাঁড়ানো, ভারী জিনিস সঠিকভাবে তোলা এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকা কোমর ব্যথা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

শেষ কথা

কোমরের দুই পাশে ব্যথা হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর পেছনে ভুল ভঙ্গি, দুর্বল পেশি বা মেরুদণ্ডের ক্ষয়ের মতো কারণ থাকে, যা সঠিক ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপিতে ভালো হয়। তবে কিডনির সমস্যা, ডিস্ক প্রলাপস বা স্নায়ুর ক্ষতির মতো গুরুতর কারণও থাকতে পারে। তাই ব্যথা বেশিদিন থাকলে বা সাথে অন্য লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে কোমর ব্যথা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Share This :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Message Us on WhatsApp